Tuesday, June 17, 2014

পাসের হার বাড়িয়ে রাজনৈতিক ক্রেডিট নেয়া হচ্ছে। প্রশ্নের মুখে শিক্ষার মান

পাবলিক পরীক্ষা নকলের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে প্রশ্ন ফাঁস। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পরীক্ষায় নকল নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান সরকারের আমলে প্রাথমিক সমাপনী থেকে এইচএসসি পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এ নিয়ে শিক্ষাবিদ-অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হলেও শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি স্বীকারই করতে নারাজ। পরীক্ষার আগের দিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হুবহু ছাপিয়ে দিলেও মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানদের এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ ছিল না।
পাবলিক পরীায় যেভাবে পাল্লা দিয়ে ‘মেধার বিস্ফোরণ’ ঘটছে, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরেই শতভাগে পৌঁছবে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীা পাসের হার। প্রায় একই অবস্থা জেএসসি-জেডিসিরও। এসএসসি ও এইচএসসির শতভাগ পাস হতেও বেশি দেরি নেই। কিন্তু উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে, শিার সংখ্যাগত সূচকে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটলেও প্রশ্নের মুখে পড়েছে গুণগত মানের দিকটি। গুণগত মানোন্নয়নের বিষয়টি বছরের পর বছর উপেতি হওয়ায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পুরো শিাব্যবস্থাই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন সবারই মনে। সম্প্রতি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীও শিক্ষার মান উন্নত করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি  বলেন, ১০ বছর  লেখাপড়ার পর কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে তাকে কি পড়ানো হলো?
বাংলাদেশের শিার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বব্যাংক বলছে, ভর্তির হার বাড়লেও কমছে শিার মান। সমাপনী পরীায় উত্তীর্ণদের শতকরা ৭৫ জন বাংলাতেই দ নয়। ইংরেজি ও গণিতের অবস্থা আরো করুণ। মানের সঙ্কটের এখানেই শেষ নয়, গেল বছর উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ জিপিএ ৫ পাওয়া শিার্থীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীায় ন্যূনতম পাস নম্বরই পায়নি। এমন অবস্থা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম পর্ব পরীায় ৪৬ শতাংশই ফেল করেছে, যাদের অর্ধেকই ফেল করেছে অন্তত পাঁচ বিষয়ে। এক সময় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাতি নিয়ে সুনাম অর্জন করলেও এখন র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের কোনো তালিকাতেই স্থান পায় না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী শিার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, শিােেত্র দুর্নীতির ফলে সেবাগ্রহীতার জন্য শিার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, অবনতি ঘটেছে শিার মানে। দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিার সুযোগ সঙ্কুচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শিার মানের সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরে আরো বলছে, বাংলাদেশে শিােেত্র শিকদের পর্যাপ্ত প্রশিণ বা ক্যারিয়ার সহায়ক সুযোগ-সুবিধা নেই। বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের অভাব এবং সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা ও সমস্যা সমাধানের জন্য উৎসাহমূলক উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না, যার ফল ভোগ করছেন শিার্থীরা।
পাবলিক পরীায় ফি-বছর রেকর্ড পাসের হার নিয়ে ‘আত্মতুষ্টির’ কিছু নেই উল্লেখ করে বিশিষ্ট শিাবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিা পর্যন্ত শিার মানে এক ধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে।
উদারভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের নির্দেশ : ফেল করলে পাস নম্বর ও উদারভাবে এসএসসি এবং সমমান পরীার উত্তরপত্র মূল্যায়নের নির্দেশ দেয়া হয় পরীকদের। একটি প্রশ্নের কিছু অংশ লিখলেও পুরো নম্বর দেয়ার নির্দেশ থাকে। পরীা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে প্রধান পরীক ও সহকারী পরীকদের নিয়ে করা বৈঠকে এ ধরনের নির্দেশ দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বোর্ডের একজন প্রধান পরীক বলেন, আমার নেতৃত্বে প্রায় আট হাজারের বেশি উত্তরপত্র মূল্যায়ন হয়েছে। কিন্তু আমরা সঠিকভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারিনি। তিনি বলেন, ওইসব উত্তরপত্রে একজনও ফেল করেনি। আমাদের আগেই নির্দেশ দেয়া হয়Ñ ‘ফেল করলে পাস নম্বর দিতে।’ এ ছাড়া একটু লিখলেও পুরো নম্বর দিতে বলা হয়। এ কারণেই আকাশচুম্বী ফল হয়েছে। ওই পরীক বলেন, বোর্ডের নির্দেশ মতো কাজ না করলে আমাদের নানা সমস্যা আছে। পরের বছর আর উত্তরপত্র দেয়া হবে না, পদোন্নতি হবে না এবং নানাভাবে হয়রানি করা হবে। তিনি বলেন, এভাবে শিাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
দিনাজপুর বোর্ডের একজন প্রধান পরীক বলেন, এবারের ফল ভালো হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত সহানুভূতির দৃষ্টিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া কোনোমতে উত্তর লিখলেও তাতে নম্বর দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এতে ফল ভালো হচ্ছে কিন্তু শিার্থীদের ধ্বংস ডেকে আনা হচ্ছে। শিার্থীরা আগের মতো পড়ালেখা করবে না। মনে করবে একটু লিখলেই নম্বর দেয়া হয়।
ইংরেজি বিভাগের একজন প্রধান পরীক্ষক জানান, তার নেতৃত্বে এসএসসি পরীক্ষার চার হাজার ২০০ উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনও ফেল করেনি। এটা কি করে সম্ভব? জানতে চাইলে এ পরীক্ষক বলেন, কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। বিভিন্নজনের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। এরপর আগামীতে উত্তরপত্র না পাওয়া আশঙ্কা থেকে যায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো পরীক্ষক ১০০-এর মধ্যে ১০০ দিয়ে দিলেও কোনো জবাব দিতে হয় না। নম্বর বেশি দিলে কোনো প্রশ্ন নেই। কম নম্বর দিলেই যত সমস্যা। উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে কেবল নম্বরই দেয়া হচ্ছে। এতে পাস ও জিপিএ ৫ বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার মান বাড়ছে না। সরকারি একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, সরকার ইচ্ছা করেই পাসের হার এবং জিপিএ ৫ বাড়াচ্ছে। এর দায় পুরোপুরি শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে। আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমাদের যেভাবে নির্দেশ দেয়া হয় সেভাবেই কাজ করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষায় বেশি ফেল করে জিপিএ ৫ প্রাপ্তরা: ২০১২-১৩ শিাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীনে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তিপরীায় জিপিএ ৫ পাওয়া ৭৫ ভাগ ফেল করেছে। দুই হাজার ২৭৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তিপরীা দিয়েছিল ৩৮ হাজার ৩৭৪ জন পরীার্থী। যাদের পাঁচ হাজার ৯০১ জন জিপিএ ৫ পাওয়া। পাস করেছে মাত্র ১৪৫৪ জন। ‘খ’ ইউনিটে ১২০ নম্বরের পরীায় উত্তীর্ণ হতে হলে একজন পরীার্থীকে কমপে ৪৮ নম্বর পেতে হবে। ২০১০ ও ২০১১ সালে এ হার ছিল ৬৮ ও ৫৬ ভাগ।
বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ‘ক’ ইউনিটে ফেলের হার ৫১ ভাগ। ৬২ হাজার ১২০ জন শিার্থী ভর্তিপরীা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার ৯১৪ জন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত। জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৫ হাজার ১২৭ জন। বাকি ৫১ ভাগ পরীার্থী পাসই করতে পারেনি। ২০১০ ও ২০১১ সালের ভর্তিপরীায় ৩৫ ও ৪২ ভাগ জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সব বিষয়ে জিপিএ ৫ (গোল্ডেন জিপিএ) পাওয়া ৭১০২ জন পরীার্থীর মধ্যে ২২২৭ জনই পাসই করতে পারেনি। বাণিজ্য অনুষদের অধীনে ‘গ’ ইউনিটে ফেলের হার ৫৮ ভাগ, ‘ঘ’ ইউনিটে ফেলের হার ৯০ ভাগ। ২০১০ ও ২০১১ সালে এই হার ছিল ৫২ ও ৬২ ভাগ।
শিাবিদদের বক্তব্য : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এসএসসি ও এইচএসসির ফল নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভালো ফল হলেও ভালো লেখাপড়া হচ্ছে না। সবকিছু হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। রাজনৈতিক চিন্তা থেকেই জিপিএ ৫ এবং পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। এজন্য শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। প্রবীণ এ শিাবিদ বলেন, ১০০ ভাগ ফল হলেই কি লাভ? যদি শিার্থীদের ভালোভাবে পড়ালেখা শেখানো না হয়, এসব করে কিছু লাভ হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর কারণে শিার্থীদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা বেড়েছে। এ ছাড়া শিকদের প্রশিণ দেয়ায় তাদের মধ্যেও বিচণতা এসেছে। তিনি বলেন, তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় এত নম্বর কি শিার্থীরা আসলেই পেয়েছে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বলেন, শিার্থীদের লেখাপড়া না শিখিয়েই এখন পাস করানো হচ্ছে। শিকদের বলা হচ্ছে যা লেখে তাতেই নম্বর দেন। জিপিএ ৫ এখন রাজনৈতিক বিষয় হয়ে গেছে। যে সরকারের আমলে যত বেশি জিপিএ ৫ সে সরকার তত বেশি ক্রেডিট নিচ্ছে। কিন্তু শিার্থীরা যে পড়ালেখা শিখছে না এটা তারই প্রমাণ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তিপরীক্ষা দিলে ৩২ হাজার ফেল করে। পাস নম্বর আটও পায় না। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে এখনকার বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। ফলে তারা কিছুই শিখছে না। এতে করে শিক্ষার মান কমেছে। সরকারের দুর্বলতার কারণে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। একটু সচেতন হলেই এটা প্রতিরোধ সম্ভব। প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের দাবি জানান তিনি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, পাসের হারের মতো ঢালাওভাবে মান বেড়েছে এটা বলা যাবে না। পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার মান নির্ণয় করা যায় না। এটা নিশ্চিত হওয়া যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের উপকরণ আছে কি না। প্রাথমিকে সৃজনশীল বিষয়ে ২০ ভাগ দক্ষতা অর্জন হয়েছে। দক্ষতা না থাকলে মান বেড়েছে তা বলা যাবে না। প্রশ্ন ফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁস এখন মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। অসাধু চক্র এটি করছে। প্রযুক্তির ব্যবহারকারীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছে, যা একেবারে অনৈতিক। এভাবে কোনো প্রজন্ম বেড়ে উঠলে তা ভালো কিছু অর্জন করবে না বলে তিনি মনে করেন।
শিামন্ত্রীর বক্তব্য : শিামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সার্বিক শিার উন্নয়নের কারণেই ফল ভালো হচ্ছে। আগের ধারার শিা ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এখন আর নোটবই পড়ে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আমরা পাঁচ লাখ শিককে প্রশিণ দিয়েছি। তারা এখন অনেক বেশি দ। শ্রেণিকে মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম চালু হয়েছে। ফলে শিার্থীরা শ্রেণিকে বসেই দেখতে পাচ্ছে কোথায় কী ঘটছে। আগে অনেক ছেলেমেয়ে বই কিনতে পারত না। এখন আমরা কোটি কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করছি। এটা শিা েেত্র একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন।
বোর্ডের বক্তব্য : আন্তঃশিা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বলেন, পরীকদের কয়েক প্রকার নির্দেশ দেয়া হলেও বেশি নম্বর দেয়ার কথা বলা হয় না। তবে দুই দফা নির্দেশনা থাকে। প্রথমত আমরা বলে থাকি আপনারা ভুলকে সঠিক ভেবে নম্বর দেবেন না। দ্বিতীয়ত কোন শ্রেণীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন তা বিবেচনায় রেখে নম্বর দেবেন। সম্প্রতি ফল ভালো করার পেছনে সৃজনশীল পদ্ধতি ও শিকদের প্রশিণকে প্রধান কারণ মনে করেন তিনি।


তাসকিনের অভিষেক॥ ইতিহাসের পঞ্চম সেরা


মিরপুরে মঙ্গলবার ভারতের বিরুদ্ধে তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিং ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ২৮ রান দিয়ে তার ৫ উইকেট পেয়ে তিনি অভিষেকে পঞ্চম সেরা বোলারে পরিণত হয়েছেন।
ইতিহাসের পাতায় এখন তাসকিনের আগে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যাডওয়ার্ড (৬/২২), অস্ট্রেলিয়ার ডডমেইট (৫/২১), শ্রীলঙ্কার কারনাইন (৫/২৬), কানাডার কডরিনটন (২৭/)।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন তাসকিনই সেরা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তিনিই অভিষেকে সেরা সাফল্য পেলেন।
১৯ বছর বয়সী আজই প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেললেও আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়ে গেছে গত এপ্রিলেই। তবে বেশি নয়, একটি টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার।
আজ মঙ্গলবার তার তাণ্ডবে কেঁপে যায় ভারত শিবির। তার শিকার হয়ে উত্থাপা (১৪), পূজারা (১১), রাইডু (১), বিনি (৩), মিশ্র (৪) বিদায় নেন। ভারত মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হয়ে যায়।




কতোটা হিংস্র, নিষ্টুর আর নির্মম হলে
মানুষ এতোটা পাষন্ড,এতোটা পিচাশ
হতে পারে!!!
ছাত্রলীগ নামের কুলাংগারগুলো আসলে
হিংস্র পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট!
এতোবড় নির্মমতা!!! অথচ,মেডিয়া এবং
সুশিল সমাজ নিশ্চুপ!!!
হায়রে আমার দেশ!!!
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান
ট্যারা মিজান কানা হয়ে যান বিশেষ
সময়ে! আর এখন সম্পূর্ন অন্ধ হয়ে
গেছেন!!!
দালাল হলুদ মেডিয়াগুলোর অবস্থাও
ট্যারা-আন্ধা মিজনদের মতোই।
সরকারের পেইড দালাল এরা! তাদের
খবর ও প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্ব,মিথ্যাচার
আর নির্লজ্জতা এতোটাই প্রবলভাবে থাকে
যে খবর পাঠক-পাঠিকা পর্যন্ত লজ্জায় লাল
হয়ে যায়।
এদের কাছে আর কি প্রত্যাশা করা যায়!


মানুষ যখন তার মনুষত্ব হারিয়ে ফেলে তখন তাকে পশুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। বাংলাদেশে ছাত্রলীগ আজ তার মনুষত্ব হারিয়ে সে পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। যারা মনুষত্ব হারিয়ে ফেলেছে অবশ্য আল্লাহতায়ালা তাদেরকে পশুর সঙ্গেও তুলনা করতে রাজি হননি, কুরআনে-‘বালহুম আদল’ বলা হয়েছে। বরং পশু তথা চতুষ্পদ জন্তু থেকে আরও নিম্নপর্যায়ের বলে উল্লেখ করেছেন। ছাত্র-যুবসমাজ একটি জাতির অহংকার। সমাজ-সভ্যতার কাণ্ডারী। দেশকে এগিয়ে নেবার দিকপাল। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি। কিন্তু সেই শক্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে নোংরা ছাত্ররাজনীতি। নষ্ট ও ভ্রষ্ট ছাত্ররাজনীতির নামে ছাত্রসমাজকে সবচেয়ে কলঙ্কিত, কলুুষিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে ছাত্রলীগ। ছাত্রদের হাতে খাতা-কলমের পরিবর্তে অস্ত্র, মেধার চর্চার পরিবর্তে মদ-গাঁজা, হিরোইন ফেনসিডিল, ইয়াবা, ক্লাস-পরীক্ষার বদলে নারী, অবৈধ টাকা দিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির এই খনিগুলোকে। জাতিবিনাশী এর থেকে ভয়ঙ্কর কাজ আর কি হতে পারে? ছাত্রলীগের নখরে আজ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সামনে শিবির নেতার পা কেটে বিচ্ছিন্ন করেছে ছাত্রলীগের নেতারা। পা কাটার পর ছাত্রলীগ নেতারা বুকে গুলি করে ফেলে যায়। এমন নারকীয়, পৈশাচিক ও ঘৃণ্য হামলা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করা 
 যায়?




Monday, June 16, 2014

সিয়াম অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় আমলসমূহ

প্রশ্নঃ সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে কী কী কাজ ও আমল অত্যাবশ্যক?

সিয়াম অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় আমলসমূহ :

[১] পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায় করা। কোন শরয়ী উযর না থাকলে সালাত মাসজিদে গিয়ে জামাআতের সাথে আদায় করা। জামাআতে সালাত আদায়কে বিজ্ঞ ওলামায়ে কিরাম ওয়াজিব বলেছেন। যারা জামাআতের সাথে সালাত আদায় করে না তারা ২৭ গুণ সাওয়াব থেকে বঞ্চিততো হয়ই, উপরন্তু ফজর ও ঈশার জামাআত পরিত্যাগকারীকে হাদীসে মুনাফিকের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যারা অবহেলা করে বিনা ওযরে সালাত দেরী করে আদায় করে তার সালাত একশবার পড়লেও তা কবুল হবে না বলে উলামায়ে কিরাম মন্তব্য করেছেন। আর মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধ ব্যক্তিকেও অনুমতি প্রদান করেন নি।

[২] মিথ্যা না বলা ও ক্রয় বিক্রয় ও অন্যান্য কাজে কাউকে ধোঁকা না দেয়া।
[৩] গীবত না করা- আর তা হলো অসাক্ষাতে কারো দোষত্রুটি বা সমালোচনা করা
[৪] চোগলখোরী না করা- আর তা হলো এক জনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে কিছু বলে ক্ষেপিয়ে তোলা ও ঝগড়া লাগিয়ে দেয়া।
[৫] গান গাওয়া ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকা

[৬] সকল প্রকার হারাম কাজ-কর্ম পরিহার করা।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,যখন তুমি রোযা রাখবে তখন যেন তোমার কর্ণ, চক্ষু এবং জিহবাও মিথ্যা ও হারাম কাজ থেকে রোযা রাখে। তুমি প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকো। আত্মমর্যাদা ও প্রশান্তভাব যেন তোমার উপর বজায় থাকে এমন হলে তোমার রোযা রাখা ও না রাখা সমান হবে না। (ইবন আবী শাইবা : ৮৮৮০)
[৭] ইসলামকে জীবনের সকলক্ষেত্রে অনুসরণ করা।
মসজিদে যেমনভাবে ইসলাম তেমনি পরিবার, সমাজ, ব্যবসা এবং রাষ্ট্রীয় জীবনেও ইসলামকে একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে বাস্তবায়ন করা।
আল্লাহ বলেন,‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে দাখিল হও পরিপূর্ণভাবে (অর্থাৎ জীবনের সর্বক্ষেত্রে)। (বাকারাহ ২০৮)

[৮] সিয়াম আবস্থায় পাপাচার ত্যাগ করা এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
(ক) কত সিয়াম পালনকারী আছে যাদের রোযা হবে শুধু উপোস থাকা। আর কতলোক রাতের ইবাদতকারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া ইবাদতের কিছুই হবে না। (অর্থাৎ পাপকাজ থেকে বিরত না হওয়ার কারণে তার রোযা যেন রোযা নয়, তার রাতের সালাতও যেন ইবাদত নয়)। (আহমাদ : ৯৬৮৩; দারেমী : ২৭৬২)

(খ) তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোযা রাখে, সে যেন তখন অশ্লীল কাজ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। রোযা রাখা অবস্থায় কেউ যদি তাকে গালাগালি ও তার সাথে মারামারি করতে আসে, সে যেন বলে ‘‘আমি রোযাদার’’। (মুসলিম : ১১৫১)

(গ) শুধুমাত্র পানাহার ত্যাগের নাম রোযা নয়, প্রকৃত রোযা হল (সিয়াম অবস্থায়) বেহুদা ও অশ্লীল কথা এবং কাজ থেকে বিরত থাকা। (ইবনু খুযাইমা : ১৯৯৬)

(ঘ) যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ এবং অজ্ঞতা থেকে মুক্ত হতে পারেনি সে ব্যক্তির শুধুমাত্র পানাহার বর্জনের (এ সিয়ামে) আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী : ৬০৫৭)

[৯] রোযা রাখা (ও অন্যান্য ইবাদত) একমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য করা। আল্লাহ বলেন,‘‘মানুষকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তাদের ইবাদত যেন শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য হয়।’’ (বাইয়্যেনাহ : ৫)
[১০] সকল হুকুম আহকাম পালনে নাবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সুন্নাত তরীকা অনুসরণ করা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘‘যে ব্যক্তি এমন (তরীকায়) কোন আমল করল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্দেশিত সেই কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য তো হবেই না রবং) তা হবে প্রত্যাখ্যাত’। (মুসলিম : ১৭১৮)

Friday, June 13, 2014

বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী চিকিৎসক

বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী চিকিৎসক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন ফিলিস্তিনি তরুণী ইকবাল আসয়াদ।

সাধারণত মেডিসিনের ওপর চিকিৎসা শাস্ত্রে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে ৩০ বছরের কাছাকাছি সময় লাগে। কিন্তু মাত্র ২০ বছরেই তা সম্পন্ন করে রেকর্ড গড়েছেন আসয়াদ।

কর্নেল ইউনিভার্সিটি কাতার শাখা থেকে মেডিসিনের ওপর গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এই তরুণী। প্রথম স্থান দখল করে মাত্র ১২ বছর বয়সে স্কুলের পাঠ সম্পন্ন করা আসয়াদ বায়োক্যামিস্ট্রি ও ম্যাথমেটিকসে মাস্টার্সও শেষ করেছেন।

একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরবর্তী শিক্ষার জন্য তার যুক্তরাস্ট্রের ওহিও যাওয়ার কথা রয়েছে।

দখলদার ইসরাইলের কাছে বাস্তু হারানো এই ফিলিস্তিনির জন্ম হয়েছে লেবাননে। প্রায়শই উদ্বাস্তু শিবির পরিদর্শনে যেতেন তিনি। আর সেখান থেকেই হয়তো চিকিৎসক হওয়ার প্রেরণা।
আরটিএনএন


ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট (আইসিল) যোদ্ধাদের হাতে মসুল ও তিকরিতের পতন ঘটার পর সামরা দখলের জন্য প্রচ- লড়াই চলছে। আইসিল যোদ্ধাদের বাগদাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা জানা গেছে। আইসিল যোদ্ধারা বাগদাদ ও কারবালা দখলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এদিকে ইরাকি সেনাবাহিনী তিকরিত পুনর্দখলের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে অপহৃত তুর্কী নাগরিকদের মুক্তি দেয়া না হলে তাদের উদ্ধারে তুরস্ক এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওদিকে ইরান হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ইরাকের নূরি আল-মালিকি সরকারকে জোরালো সমর্থন দেবে।
জানা গেছে, আইসিলের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান সহায়তা চেয়েছে ইরাক সরকার। পাশাপাশি মার্কিন বিমান হামলার জন্য ইরাকের আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বাগদাদ সরকার। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র মনুষ্যচালিত বিমান বা ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে।
জানা যায়, বুধবার আইসিল যোদ্ধারা তিকরিত দখল করার পর ইরাক সরকার সারাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। পরে সরকারের সন্ত্রাস দমন বাহিনী সেখানে পৌঁছে। এ সময় বিমানবাহিনী হামলা চালায়। তাদের সম্মিলিত হামলার পর সরকারি সৈন্যরা তিকরিত পুনর্দখল করে বলে এবং তা তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে রাষ্ট্র পরিচালিত ইরাকিয়া টিভির খবরে বলা হয়।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোশিয়ার জেবারি বলেন, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড আল শাম (আইসিস)-এর সশস্ত্র যোদ্ধারা ইরাকের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকির সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, আল-কায়েদা সম্পর্কিত আইসিস যোদ্ধারা ইরাকের সুন্নী প্রধান আনবার প্রদেশ থেকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশ পর্যন্ত একটানা বিস্তৃত ভূখ-ে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে।
বুধবার সন্ধ্যায় সামারা শহরের উপকণ্ঠে ইরাকি সেনা ও আইসিস যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলার কথা জানা যায়। সামারা বাগদাদ থেকে ৮০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। তবে ইসলামী যোদ্ধাদের হাতে শহরটির পতন ঘটেছে কি না তা জানা যায়নি। এদিকে আইসিস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো লড়াই না করায় হুমকির মুখে ইরাকি সেনারা বাগদাদ রক্ষা করতে সক্ষম হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ইরান সরকার কর্তৃক প্রশিক্ষিত ও অর্থসাহায্যপুষ্ট ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ারা বলেছে, তারা বাগদাদ রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে। শিয়া মিলিশিয়ারা বাগদাদে আইসিস সদস্য বলে সন্দেহভাজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রচারিত এক শ্রুতি রেকর্ডিংয়ে আইসিল যোদ্ধারা রাজধানী বাগদাদসহ ইরাকের আরো শহর দখলের অঙ্গীকার করেছে। রেকর্ডে আইসিলের মুখপাত্র আবু মোহাম্মদ আল মাদনানি বলেন, বাগদাদ ও কারবালাসহ অন্যান্য শহর দখল করার জন্য লড়াই চলতে থাকবে। আমরা বাগদাদ ও কারবালায় আঘাত হানতে যাচ্ছি। তার জন্য তৈরি হোন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক স্থানে ইসলামী যোদ্ধাদের উপস্থিতির আগেই সরকারি সৈন্যরা তাদের অবস্থান পরিত্যাগ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক ডজন আইসিস যোদ্ধার হামলার মুখে বিপুল অস্ত্র সজ্জিত সরকারি বাহিনীর কয়েকশ’ সদস্য পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, মসুল ও তিকরিতের পতনের পর বাগদাদের প্রতি হুমকি সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিকে ইরাক সরকার মার্কিন বিমান হামলা চালানোর অনুমতি দেয়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সাথে তারা আল-কায়েদার শাখা সংগঠন ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড আল শাম বা আইসিস যোদ্ধাদের বিতাড়িত করতে প্রতিশ্রুত সামরিক সাহায্য বিশেষ করে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, এফ-১৬ জঙ্গি বিমান ও নজরদারি সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র মনুষ্যচালিত জঙ্গি বিমান হামলা চালাবে না ড্রোন হামলা চালাবে সে বিষয়ে কিছু জানাতে কর্মকর্তারা অস্বীকার করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ওবামা প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তা করছে। বুধবার পররাষ্ট্র দফতরের মহিলা মুখপাত্র জেন পিসাকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বিষয়ে ইরাক ও তুরস্ক সরকারের সাথে আলোচনা করছে।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহিলা মুখপাত্র বার্নাডেট মিহান বলেন, ইরাকের সাথে বর্তমান আলোচনায় আইসিসের হুমকির মোকাবিলায় ইরাকিদের সক্ষম করে তোলার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ মালিকির সরকারের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে ও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মসুলের পতনের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নূরী আল মালিকি প্রচ- চাপের মুখে পড়েছেন। তার এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। মসুলের গভর্নর নগরীর পতনের জন্য তাকে দায়ী করেছেন। সকল রাজনীতিকও একই অভিযোগ করেছেন, যেহেতু তিনিই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এদিকে মালিকি আইসিসকে বেড়ে উঠতে দেয়ার জন্য সিরিয়া সরকারকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার শিয়া সরকারকে উৎখাতের জন্য সউদী আরব ও কাতার সন্ত্রাসীদের অর্থ যোগাচ্ছে।
এদিকে মালিকির জরুরি অবস্থা ঘোষণার ব্যাপারে ভোট গ্রহণে ইরাকি পার্লামেন্ট ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হলেও কিছুসংখ্যক পার্লামেন্ট সদস্য উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান, যে কারণে কোরাম হয়নি।
ওদিকে মসুলে তুর্কি দূতাবাস থেকে অপহৃত ৪৮ জন স্টাফকে মুক্তি দেয়া না হলে তুরস্ক ইরাকে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে হুমকি দিয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভোতোগলু বলেন, আমাদের নাগরিকদের কোনো ক্ষতি হলে তার জবাব দেয়া হবে। তুরস্ককে আরো পরীক্ষা করার সাহস করা উচিত নয়।
প্রতিবেশী ইরাকে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে জোরালো সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইরানের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, ইরাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা জোরালো সমর্থন দেব। তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, ইরাকের সামরিক বাহিনী যথেষ্ট সক্ষমতার সঙ্গে গেরিলাদের মোকাবিলা করবে’।
আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, ইরাক যখন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন দেশটিতে সন্ত্রাসবাদকে সফল হতে দেয়া হবে না। গত মঙ্গলবার ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভ্যান্ট বা আইসিল উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহরসহ নেইনাভা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ইরান এ কথা বলল। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও গত বুধবার এক বিবৃতিতে ইসলামপন্থী গেরিলাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরাক সরকারের প্রতি সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আইসিস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ইরাকে ব্রিটিশ সেনা পাঠাবে না বলে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ জানিয়েছেন। বুধবার তিনি বলেন, ইরাকের পরিস্থিতি যদিও গভীর উদ্বেগজনক, তা সত্ত্বেও ব্রিটেন সেখানে সংশ্লিষ্ট হতে চায় না। তিনি বলেন, এ হুমকি মোকাবিলায় ইরাকের যথেষ্ট সৈন্য আছে। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা সিরিয়া সংকটের সমাধানের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করেছে। কারণ, সেখান থেকে সংঘাত প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে, অস্থিতিশীল করে তুলছে ইরাককে। ব্রিটিশ সৈন্যরা পাঁচ বছর আগে ইরাক ত্যাগ করে। তারা আবার ইরাকে ফিরবে কি না জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সূত্র : ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, এএফপি, আইবি টাইমস, ডি ডব্লিউ।