Showing posts with label ইসলামিক. Show all posts
Showing posts with label ইসলামিক. Show all posts

Sunday, June 1, 2014

========Quran Software (Android)'''''''''''''

আজ আমি আপনাদের এমন একটি সফটওয়্যারের কথা বলবো, যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য খুবুই প্রয়োজনীয় ৷

নামঃ iQuran
সাইজঃ 26.45 MB
লিংকঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.guidedways.iQuran&referrer=utm_source%3Dgoogle%26utm_medium%3Dorganic%26utm_term%3Diquran+android

সুবিধা সমূহঃ
1. ১৫ টিরও বেশী ভাষা (English, Bangla, Urdu সহ)
2. যে কোন শব্দ সহজে খুজে পাওয়া (বাংলা সহ)
3. আয়াত গুলো যে কোন জায়গায় শেয়ার করা
4. ৫ জনেরও বেশী কারীর তেলাওয়াত
5. সুন্দর ডিজাইন

এছাড়া আরও অনেক সুবিধা রয়েছে ৷
--------------জাঝাক আল্লাহু খইর.................

Tuesday, May 27, 2014

তাওহীদ অর্থ কি?
তাওহীদ আরবী শব্দ। তাওহীদ অর্থ কোন কিছুকে একক সাব্যস্ত করা। আল্লাহর একত্বই হোল তাওহীদ।

তাওহীদ কাকে বলে?
তাওহীদ হোল আল্লাহতা’লা তাঁর কার্যাবলীতে একক, তাঁর নাম এবং গুনাবলীতে একক মর্যাদার অধিকারী এবং সমস্ত ইবাদত পাওয়ার হকদারও একমাত্র আল্লাহ।
পক্ষানতরে যে কোন ইবাদত আল্লাহর জন্য না করে অন্য কোন স্বার্থে করাকে বলে শিরক।

তাওহীদ কয় প্রকার ও কি কি?

তাওহীদ বা আল্লাহ্র একত্ববাদ তিন প্রকারঃ

১. রুবুবিয়াত তথা প্রতিপালনের ক্ষেত্রে আল্লাহ্র একত্ববাদঃ

আমাদেরকে এই অকাট্য বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা এবং পরিচালক; এক্ষেত্রে তার কোনো অংশীদার নেই এবং নেই কোনো সহযোগীও। মহান আল্লাহ বলেন,
“আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক্ব দান করে? তিনি ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কিভাবে (তাঁর তাওহীদ থেকে) ফিরে যাচ্ছ?” (ফাতির ৩)। তিনি আরো বলেন,

“নিশ্চয় মহান আল্লাহই একমাত্র রিযিক্বদাতা, মহাশক্তিমান এবং পরাক্রান্ত” (যারিয়াত ৫৮)। তিনি আরো বলেন,
“তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সবকিছু পরিচালনা করেন” (সাজদাহ ৫)।

২. আল্লাহ্র সুন্দরতম নামসমূহ এবং গুণাবলীর ক্ষেত্রে একত্ববাদঃ

অর্থাৎ এই বিশ্বাস করতে হবে যে, মহান আল্লাহ্র সুন্দরতম নামসমূহ এবং পরিপূর্ণ গুণাবলী রয়েছে, যেগুলি কুরআনুল কারীম ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ বলেন,“আর আল্লাহ্র রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। অতএব, সেগুলির মাধ্যমেই তাঁকে ডাকো” (আ'রাফ ১৮০)। এই নামসমূহ এবং গুণাবলীতে কোনোরূপ পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না এবং এগুলির কল্পিত কোনো আকৃতি যেমন স্থির করা যাবে না, তেমনি কোনো সৃষ্টির সাথে সেগুলির কোনোরূপ সাদৃশ্য বিধানও করা চলবে না। আমাদেরকে আরো বিশ্বাস করতে হবে যে, মহান আল্লাহ্র মত আর কেউ নেই। আল্লাহ বলেন,
“কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বদ্রষ্টা” (শূরা ১১)

৩. উলুহিয়াত তথা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ্র একত্ববাদঃ

এর অর্থ হচ্ছে, আমাদেরকে এমর্মে অকাট্য বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, একমাত্র আল্লাহই এককভাবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য, এতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
“তাদেরকে কেবলমাত্র এই নির্দেশ করা হয়েছে যে, তারা খাঁটি বিশ্বাসের সহিত এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করবে” (বাইয়্যেনাহ ৫)।

Monday, May 19, 2014

বিশ্বের ৪৩টি দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশী শিশু হাফেজা ফারিহা তাসনিম। আলহামদুলিল্লাহ।

এতগুলো দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে ১ম হওয়া অনেক গৌরবের ব্যাপার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশী শিশু হাফেজা ফারিহা তাসনিমের বিশ্বের ৪৩টি দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হবার খবরটি বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্রিকার প্রথম পাতা তো দূরের কথা, ভিতরের পাতাতেও ছাপা হয়নি। আর টিভি নিউজত দুরের কথা।

ওরা ছাপাক আর না ছাপাক, দেখাক আর না দেখাক। আমরা যাতে এইটা জানতে পারি যে ফারিহা তাসনিম নামের ছোট্ট মেয়েটা আমাদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য কতটা সম্মান এনেছে। ফারিহা তাসনিমকে অভিনন্দন আমাদের গর্বিত করার জন্য।
বিশ্বের ৪৩টি দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশী শিশু হাফেজা ফারিহা তাসনিম। আলহামদুলিল্লাহ। এতগুলো দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে ১ম হওয়া অনেক গৌরবের ব্যাপার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশী শিশু হাফেজা ফারিহা তাসনিমের বিশ্বের ৪৩টি দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হবার খবরটি বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্রিকার প্রথম পাতা তো দূরের কথা, ভিতরের পাতাতেও ছাপা হয়নি। আর টিভি নিউজত দুরের কথা। ওরা ছাপাক আর না ছাপাক, দেখাক আর না দেখাক। আমরা যাতে এইটা জানতে পারি যে ফারিহা তাসনিম নামের ছোট্ট মেয়েটা আমাদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য কতটা সম্মান এনেছে। ফারিহা তাসনিমকে অভিনন্দন আমাদের গর্বিত করার জন্য।

Wednesday, March 26, 2014

দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য সহজ আমল

দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য সহজ আমলঃ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের হাত থেকে রক্ষা পাবে।” অন্য এক হাদীসে আছে, “সুরা কাহফের শেষ দশ আয়াত।” 
সহীহ মুসলিম, রিয়াদুস স্বালেহীনঃ ১০২১।

> দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য সুরা কাহফের প্রথম বা শেষের ১০ আয়াত মুখস্থ করার কথা হাদীসে এসেছে, দুইটা হাদীসই সহীহ। যার যেই আয়াত ভালো লাগে, প্রথম বা শেষের যেকোন ১০ আয়াত মুখস্থ করলেই হবে।

>> যারা সকাল সন্ধ্যার ওযীফার মাঝে কুরআন থেকে নির্দিষ্ট অংশ তেলাওয়াত করেন তারা এই ১০ আয়াতকে ওযীফার অংশ হিসেবে সকাল সন্ধ্যায় তেলাওয়াত করতে পারেন।

>>> বাংলা উচ্চারণ দেখে আরবী পড়লে উচ্চারণ ঠিক হয়না। আপনারা অবশ্যই নামাযের জন্য জরুরী কিছু সুরা কেরাত উস্তাদের কাছ থেকে শিখে নেবেন। নারীরা নারী ও পুরুষেরা আর পুরুষের পুরুষ উস্তাদের কাছ থেকে। নারী উস্তাদ না পাওয়া গেলে নারীরা পুরষ উস্তাদের কাছ থেকে শিখলে অবশ্যই কঠোর হিজাব পর্দা ও পুরুষ মাহরাম এর উপস্থিতিতে শিখবেন। এইখান থেকে অনেক ফেতনা হয়, সচেতন সকলেই জানেন।

>>>> উস্তাদ না পেলে আরেকটা কাজ করতে পারেন, মক্কা ও মদীনার ভালো ক্বারী যেমন শায়খ শুরাইম, শায়খ সুদাইস, মাহের আল-মুয়াইকিলি, মিশারি রাশিদ আল-আফাসী উনাদের তেলাওয়াত বারবার শুনে তাদের কপি করবেন এতে সহজে মুখস্থ ও তাজবীদ ঠিক হবে ইন শা' আল্লাহ।

>>>> আমি আরবী উচ্চারণ দিয়ে দেই যাতে করে মূল আরবী যাদের কঠিন লাগে তারা বাংলা উচ্চারণ থেকে সাহায্য নিতে পারেন, কিন্তু আপনার শেখার সুরা/দুয়া শেখার সময় অবশ্যই আরবী হরফের দিকে লক্ষ্য রাখবেন। আর সুরা কাহফের ১০ আয়াতের উচ্চারণ দেওয়ার জন্য অনেকেই অনুরোধ করেছিলেন, আজকে তাই প্রচলিত একটা মুসহাফ থেকে ২টি ছবিতে দিয়ে দেওয়া হলো। আপনারা ছবিগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন ইন শা আল্লাহ।

যেকোন সুরা মুখস্থ জন্য সহজ পদ্ধতিঃ 
সুন্দর একটা তেলাওয়াত নিয়ে বেশ কয়েকবার শুনবেন। এর পরে মুখস্থ করা শুরু করবেন প্রতিদিন ৫ অথবা ১০ আয়াত করে। এইভাবে যতদিন না মুখস্থ হচ্ছে প্রতিদিন বারবার তেলাওয়াত শুনতে থাকবেন ও বারবার পড়ে মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন। আর বড় সুরা হলে (যেমন সুরা মুলক মুখস্থ করতে পারেন, এই সুরাটা মুখস্থ রাখা ও প্রতিদিন তেলাওয়াত করার অনেক ফযীলত) প্রতিদিন ১বার তেলাওয়াত করলে ২-১ মাসে এমনিতেই মুখস্থ হয়ে যায়।

সুরা আল-কাহাফ (১৮ নাম্বার সুরা, আয়াত ১-১০)
কাহাফ – অর্থ হচ্ছে – গুহা/Cave. 
এই সুরাতে কয়েকজন যুবকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। যাদেরকে ততকালীন কাফের রাজা বেঈমান বানাতে চাচ্ছিলো। তারা তখন একটা কুকুরসহ গুহায় আশ্রয় নেয় এবং আল্লাহ তখন তাদেরকে একঘুমে ৩০৯ বছর পার করে দেন। তাদেরকে আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসী বলা হয়।

আ'উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম। বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহীম। 
১. সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি।
২. একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে-তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে।
৩. তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।
৪. এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে।
৫. এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও নেই। কত কঠিন তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তা তো সবই মিথ্যা।
৬. যদি তারা এই বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবতঃ আপনি পরিতাপ করতে করতে নিজের প্রাণ নিপাত করবেন।
৭. আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে।
৮. এবং তার উপর যাকিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।
৯. আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল ?
১০. যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোআ করেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।



Monday, March 10, 2014

জাহান্নাম থেকে বাঁচার ও জান্নাতে যাওয়ার সহজ আমল...

প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার করে পড়তে হয়ঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, জাহান্নাম আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও”।
তিরমিযিঃ ২৫৭২, ইবনে মাজাহ ৪৩৪০, শায়খ আলবানি এই হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামি ৬২৭৫।


*উল্লেখ্য – সকাল সন্ধ্যায় ৭ বার “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার” পড়ার হাদীসটা জয়ীফ বা দুর্বল, শায়খ আলবানী সিলসিলা জয়ীফাহঃ ১৬২৪। 
সুতরাং সেটা না পড়ে এই দুয়া পড়বেন, কারণ এটাতে জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া দুইটা দোয়াই আছে, আর এটা সহীহ। “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার” থেকে "আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার" এই দুয়াটাই ভালো ও সহীহ।

Thursday, February 13, 2014

যিনা কি?



রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”।
সহীহ আল-বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী।

যিনা হারামঃ
আল্লাহ তাআ’লা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ 
“তোমরা যিনার কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ"।
সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩২।

যিনার শাস্তিঃ
রাসুল ﷺ বলেছেনঃ “আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ। 
সহীহ আল-বুখারী।

Wednesday, February 12, 2014

এই লেখা যারা পড়বেন তাদের সকলকে আমি সতর্ক করছি...

যারা গান-বাজনার প্রোগ্রামে অংশগ্রহ করেন......

এই লেখা যারা পড়বেন তাদের সকলকে আমি সতর্ক করছি...

বিয়ে/হলুদ/ওয়ালীমা/পার্টি/কনসার্ট/র‍্যাগ ডে/ভালোবাসা দিবস/পহেলা বৈশাখ/বসন্ত বরণ/থার্টি-ফার্স্ট...

এমন যেকোনো প্রোগ্রামে যেখানে...

“গান-বাজনা...গায়িকা...বেপর্দা নারীদের বেহায়াপনা শরীর প্রদর্শন......মাদক ও নেশা-জাতীয় দ্রব্য...সর্বোপরি, অশ্লীলতা ও জঘন্য পাপাচারগুলো থাকবে”

আপনার ভুলেও এইগুলো তে শরীক হবেন না, এইগুলোকে সমর্থন করবেন না, সামর্থ্য থাকলে বাঁধা দেবেন। এমনকি নিকটাত্মীয় কেউ দাওয়াত দিলেও যাবেন না। আপনি কি চান, এদের পাপাচারের দাওয়াত কবুল করে তাদেরকে উতসাহিত করার শাস্তি হিসেবে আল্লাহ আপনাকে মাটিতে মিশিয়ে দিক? অথবা নিকৃষ্ট বানর শুকরে পরিণত করে দিক? (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

পাপ কাজকে বান্দাদের জন্য আকর্ষণীয় ও লোভনীয় করে দেওয়া হয়েছে, কারণ এই পাপ কাজের আড়ালেই রয়েছে “জাহান্নাম”।

পাপ কাজ করে যদি সাময়িক আনন্দ না থাকতো তাহলে হয়তো দুনিয়ার কেউই পাপ কাজে লিপ্ত হতো না। কিন্তু এই সাময়িক আনন্দের পেছনে রয়েছে অনেক দুঃখ...আর জাহান্নামতো হচ্ছে উত্তপ্ত অগ্নি...

তবে অনেক পাপ আছে যেইগুলোর শাস্তি দুনিয়াতেই দেওয়া হয়...
এইরকম একটা উদাহরণ হচ্ছে জেনা-ব্যভিচারের শাস্তি এইডস...এইডস যে কি ভয়ংকর একটা আযাব তা জানার জন্য আপনার কোনো এইডস রোগী দেখে আসতে পারেন। তার রোগের কষ্ট না, শুধু তার মানসিক কষ্টটাই যে কি মারাত্মক...লা হা’উলা ওয়ালা ক্বুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ...

এইরকম গান-বাজনা, নৃত্য এইগুলোর কি কোনো শাস্তি দুনিয়াতে দেওয়া হবে??

উত্তর হচ্ছে, হ্যা হবে...এইরকম অনেকের নিকৃষ্ট শাস্তি দুনিয়াতেই হবে। আর পরকালের শাস্তিতো আরো মারত্মক। এইজন্য আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“ইন্না বাতসা রাব্বিকা লাশাদিদ”।
নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।
সুরা আল-বুরুজ

কি শাস্তি হবে বলার আগেই বলে নেই প্রচলিত গান-বাজনা/হলুদ/পার্টি ইত্যাদি প্রোগ্রামগুলোতে যা থাকে...
১. উদ্দাম-উশৃংখলার গান-বাজনা, যা মানুষকে উন্মত্ত করে দেয়। এগুলো মানুষকে এতোটাই উন্মত্ত করে দেয় যে, নারীরা লাজ-শরম ভুলে নিজেদেরকে পুরুষদের কাছে বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেনা। 
২. নর্তকী...পুরুষদের জন্য প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ফাহেশা নারী। টাকার গোলাম কিছু প্রফেশনাল নারী, যারা আসলে একজন পতিতার চেয়ে বেশি কিছুনা, এদেরকে নিয়ে আসা হয় লম্পট-বেদ্বীন পুরুষদেরকে আকর্ষণ করার জন্য। আর পরিবেশ এমন হয়, অনেকে সাধারণ মেয়েরাও এই সমস্ত নর্তকীদের সাথে পুরুষদের মনোরঞ্জনে নেমে পড়ে।
৩. গায়িকা...কেয়ামতের একটা লক্ষণ, গায়িকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। কারণ নারীদের কন্ঠ লক্ষ লক্ষ যুবকের চরিত্রের শুদ্ধতা নষ্ট করে দিতে পারে।
৪. বিভিন্ন মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য...
এই পার্টিগুলো অনেক তরুণের নেশা ধরার স্থান। ফ্রীতে দামী নেশাদ্রব্য খেয়ে বাকি জীবন নেশার পেছনেই ধ্বংস করে।

আপনারা জানেন কিনা জানিনা, কেয়ামতের ছোট যে লক্ষণগুলো হাদীসে বলা হয়েছে তার বেশিরভাগই ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এইরকম দুইটা আশ্চর্য নিদর্শন আমি আপনাদেরকে আবার স্মরণ করিয়ে দেই।

১. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা একে-অপরকে হত্যা করবে। এমনকি মানুষ তার প্রতিবেশি, তার ভাইয়ের ছেলে এবং আত্মীয়দেরকে হত্যা করবে।”
ইবনে মাজাহঃ ২/৩২৯৮।

২-১ দিন আগে পত্রিকাতে দেখলাম নিকটাত্মীয় কেনো, এক নরপশু তার নিজের বাবাকে হত্যা করেছে। এর আগেও বহু খবর এসেছে ছেলে-মেয়ে বাবা বা মাকে হত্যা করেছে। আর এক মেয়েতো তার নিজের বাবা-মা উভয়কে হত্যা করে সবার কাছেই পরিচিত হয়ে গেছে। ব্যপারটা ২-১টা না, এমন অনেকই ঘটছে বর্তমান অধঃপতিত মুসলিম সমাজে।

২. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এক হাদীসে বলেছেন, “তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রীস্টানদের পদে পদে অনুসরণ করবে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে জেনা করে তাহলে তোমরাও তা করবে (নাউযুবিল্লাহ)।”
বাযযারঃ ১২১০৫। 

***এই হাদীসের বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই হয়েছে। মায়ের সাথে না হলেও নিজের পরিবারের সাথে জেনা/ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছে এমন কিছু নরপশুর কথা আমাদের জানা আছে। এছাড়া বিভিন্ন ফতোয়া ও ইসলামী জিজ্ঞাসার সাইটে এই সম্পর্কে বাস্তব ঘটনা নিয়ে ফতোয়াও জানতে চাওয়া হচ্ছে আজকালকার যুগে...ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

কেয়ামত কবে হবে কেউ জানেনা, কিন্তু এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় খুব বেশি দেরী নেই...

যাইহোক এইবার আসি মূল আলোচনায়...গান বাজনার পার্টির শাস্তি...

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“কেয়ামতের আলামত হচ্ছে (দ্বীনি) জ্ঞান উঠে যাওয়া, অজ্ঞতার সয়লাব হওয়া, মদ পান করা, ব্যভিচার ব্যপকতা লাভ করা।”
মুসলিম, কিতাবুল ইলম।

শেষ জামানার লক্ষণ হচ্ছেঃ
“গান-বাদ্য, গায়িকা ও মদপানকে হালাল মনে করা হবে।”
ত্বাবারানি। 

এই সবগুলোই এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এইগুলোর শাস্তিঃ
“...ভূমিধ্বসে ধ্বংস করে দেওয়া হবে...মানুষের আকৃতি পরিবর্তন করা হবে...”
ত্বাবারানি।

কি আকৃতি পরিবর্তন করা হবে? 
মানুষকে শূকর ও বানরে পরিণত করে দেওয়া হবে পূর্বে যেমন ইয়াহুদীদেরকে করা হয়েছিলোঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। তাদের মাথার উপরে গান-বাজনা ও নারী-নৃত্য চলতে থাকবে। আল্লাহ তাদেরকে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন। আর তাদেরকে বানর ও শূকরে পরিণত করে দেবেন।”
ইবনে মাজাহঃ ২/৩২৪৭।

!!!বর্তমানে আমরা ঠিক এটাই দেখতে পাচ্ছিঃ এনার্জি ড্রিংকস, স্পিরিচিউয়াল ড্রিংকস, ইয়াবা, আফিম ইত্যাদি নামে নেশা করা হচ্ছে...মাথার উপরে মাইকে গান বাজনা হচ্ছে...স্টেজে নারীরা অশ্লীল বেহায়া নৃত্য করছে। বেনামাযি, কাফের, মুশরেকদের সাথে অনেকে নামাযি, আধা হিজাবী, দুর্বল ঈমানদার ভাই-বোনও এতে জড়িয়ে পড়ছে।

এদের শাস্তি স্বরূপ একদল লোকদেরকে মাটিতে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের দেশে ইতিমধ্যে যে বিল্ডিং ধ্বসে মারাত্মক দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে...নিঃসন্দেহে এইগুলো আল্লাহর আজাব-গজবের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। এমন হওয়াও অসম্ভব না যে – গান, গায়িকা, মদ, জেনার প্রাদুর্ভাব হিসেবে – এইগুলো সেই আজাবের অংশ, যা হাদীসে কেয়ামতের আলামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে!!!

হয়তো ভবিষ্যতে আরো এইরকম বিল্ডিং বা মাটি ধ্বসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনো বাকি রয়েছে...মানুষকে শুকর ও বানরে পরিণত করা। আল্লাহ তার নবী রাসুলদের যে ওয়াদা দিয়েছেন তা অবশ্যই সত্য। একদিন হয়তো এমন হবে, এইরকম গান-বাজনা, মদ, অশ্লীল নারীদের নৃত্যের কোনো প্রোগ্রামে মানুষেরা সারা-রাত আনন্দ ফূর্তিতে লিপ্ত থাকবে। আর সকাল বেলায় তাদেরকে বানর ও শূকরে পরিণত করে দেওয়া হবে...